Showing posts with label ইসলামের ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইসলামের ইতিহাস. Show all posts
Wednesday, July 18, 2018
স্পেনের বাব আল মর্দম মসজিদ
✍️ইমরান বিন বদরী।
ইসলামের সৌন্দর্য ও কল্যাণে আকৃষ্ট হয়ে সাহারা মরুভূমি ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের যে জোয়ার ওঠেছিলো সেই জোয়ারের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিলো ইউরোপের মাটিতেও৷
৮ম শতাব্দীর দিকে স্পেনে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম শাসন৷ মুসলমানদের নিরলস প্রচেষ্টায় স্পেন জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সভ্যতার ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নতি লাভ করেছিলো ৷ দীর্ঘ প্রায় সাতশত আশি বছর মুসলিম শাসন অব্যাহত থাকে এ স্পেনে ৷ ইসলামী ইতিহাসের দীপ্তিময় এক বিজয় পরবর্তী করুণ এক ইতিহাসের সাক্ষী আজ আইবেরীয় অঞ্চলের রক্তমাখা এ স্পেনের মাটি। আজো যেন সেই ক্রন্দনরত মুসলমানদের আর্তনাদ এবং তাদের করুণ অশ্রু আকাশ থেকে নিরবে বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ে এ মাটিতে। আরব ভূখণ্ডে আমার নূর নবী সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলামের সেই আলো যখন পূর্ব-পশ্চিমে প্রসারিত হতে শুরু করছিলো তখন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে উত্তরে প্রসার করতেও দেরী করেননি। তৎকালীন সময়ে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব পাড়ের ন্যায় পশ্চিমাংশেও মুসলমানদের আওতাধীন হয়েছিল।
আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব স্পেনের মুসলিম সভ্যতার আরেকটি নিদর্শন যেটার নাম "ক্রিস্টো দে লা ল্যুজ"। এটি মুসলমানদের বিষাদময় ইতিহাসের আরেকটি সাক্ষী হয়ে আছেন। কাস্তিয়া লা মান্সা প্রভিন্সের টলেডো শহরে এটি অবস্থিত। এ শহরে রয়েছে মুসলমানদের অনেক ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন । তৎকালীন স্পেনের বিত্তবান মুসলমানদের বসবাসের প্রিয় স্থান ছিলো এ টলেডো। শহরটি রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সে সময়কার ইউরোপে মুসলিম সভ্যতার বিকাশে যে সমস্ত শহর অগ্রগামী ছিলো সেগুলির অন্যতম ছিলো এই টলেডো নগরী।
একসময় এ শহরে মুসলমানদের আধিপত্য থাকলেও তা চলে যায় খ্রিস্টান ও ইহুদির দখলে। তবু প্রাচীন বহু মুসলিম নিদর্শন অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষিত আছে। তৎকালীন মুসলিম শাসনে নির্মিত যে সমস্ত মসজিদ আজ গির্জা কিংবা অব্যহৃত হয়ে টুরিস্ট স্পটে পরিণত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এই 'ক্রিস্টো দে লা ল্যুজ'। আজকের এই মসজিদটি তখনকার আমলে ( مسجد باب المردوم) স্প্যানিশ ভাষায় যেটি "মসকুইতা বাব আল মর্দম" নামে পরিচিত ছিলো। ১৮৮২ সালের দিকে মসজিদের একটি দেয়ালের আবরণ পড়ে গেলে তাতে আবিস্কৃত হয় একটি শিলালিপিতে আরবীতে লেখা এ মসজিদের নির্মাণকাল যা ৯৯৯ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল।
দ্বাদশ শতকে শহরটি খ্রিস্টানদের অধিকারে আসার পর এ মসজিদের একাংশ গির্জায় রূপান্তর করা হয়। তবে মসজিদের অংশটি এখনও সংরক্ষিত আছে। ১৫৬৩ সালের আগ পর্যন্ত স্পেনের রাজধানী থাকা এ টলেডোকে ১৯৮৬ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। আজ মুসলমানরা আধুনিক স্পেনের জন্ম দিয়েও মুসলিম ইতিহাসের দুঃখ হয়ে বেঁচে আছে। সে সময়কার মুসলমানরা যদি ইসলামের প্রকৃত পাবন্দী হয়ে নিজেরা আন্তঃকোন্দলে নাজড়িয়ে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতো আজকের এ ইউরোপ হয়তো মুসলমানদের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতো।
---------
ইতিবাচক ও নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ
লেখকঃ মাহদী গালিব 📖
একটি গ্লাস। অর্ধেক পানি। সামনে রাখা। ডাক্তার বলবে : গ্লাসের অবস্থা ব্যাখ্যা করুন। কেউ বলবে অর্ধেক ভর্তি। কেউ, অর্ধেক খালি। এই 'খালি' ও 'ভর্তি' মানসিকতার প্রকাশ। ইতিবাচক ও নেতিবাচক। পজেটিভ ও নেগেটিভ। পজেটিভগণ বলবে, ভর্তি। নেগেটিভগণ বলবে, খালি।
সমস্ত বিষয়টি হচ্ছে 'দৃষ্টিকোণ'। পয়েন্ট অভ ভিউ। জীবনে দৃষ্টিকোণের প্রভাব বিশাল। আমরা জগতকে কিভাবে দেখি। এবং নিজেকে কিভাবে দেখাই। সব কিছুই দৃষ্টিকোণের ওপর নির্ভরশীল।
ইমাম আ'লা হযরত কে একজন বলল। মদিনা-মুনিব (দ) নামায পড়ছিলেন। কিন্তু তাঁর কাপড়ে লেগেছিল ধুলো-বালি। তিনি কি জানতেন না? এ সামান্য বিষয়টিও তিনি যদি না জানেন, তবে ইলমে গায়েব জানেন কি করে?
['অদৃশ্য-জ্ঞান' কে ইলমে গায়েব বলে। ধরুন আজ থেকে একশ বছর পর, কিংবা পৃথিবী থেকে সূর্য পেরিয়ে অন্য গ্যালাক্সিতে কি হচ্ছে আমরা জানি না। কিন্তু আল্লাহ জানেন। এবং তাঁর বন্ধুকে জানিয়ে দিয়েছেন। এই জানাকেই বলে 'ইলমে গায়েব'। এর ব্যাখ্যা বিশাল। অতিসহজে বললাম।]
যা-হোক, আ'লা হযরত বললেন : ধুলো-বালি লেগেছে, তিনি জানতেন না। এভাবে বলিও না। এভাবে বলো, ধুলো আমার রাসুল-অতুল (দ) এঁর কাছে আশ্রয় নিয়েছে। কারণ, সৃষ্টির সমস্ত কিছুই আমার রাসুলের কাছে আশ্রয় চায়।
এটাই পার্থক্য। কিভাবে দেখছি? পজেটিভ-নেগেটিভ। আরেকটি উদাহারণ।
মদিনা-মুনিব (দ) মেষ চড়িয়েছেন। মুনাফেকরা বলে, নবী তো রাখাল। সাধারণ মানুষ। বড় ভাইয়ের মত সম্মান করো। তাঁকে নিয়ে এত মাতামতির কি আছে?
আ'লা হযরত বলেন, হে অভাগা! তুমি মেষের পিছনে নবী-আরাবী (দ) কে দেখ। কিন্তু দেখনা, কোটি মানুষ তাঁর আনুগত্য করে। মেরাজ রাতে নবী-সুরভী (দ) এঁর পিছনে জিব্রাইলকে দেখ না। দেখ না সমস্ত রাসুল, স্থান, সময়, সৃষ্টিকে ছাপিয়ে তিনি স্রষ্টার সান্নিধ্যে গিয়েছেন। এই তোমার বিবেক!
----
একই কোর'আন পড়ে কেউ নবীজি (দ) কে মূর্খ বলে। কেউ বলে সমস্ত জ্ঞানের উৎস। কেউ বলে মৃত। কেউ বলে হায়াতুন্নাবী। কেউ বলে চিরপবিত্র। কেউ বলে দোষে-গুনে মানুষ।
এই যে পার্থক্য। এটাকেই বলে দৃষ্টিভঙ্গী। কে ইসলামকে কিভাবে নিচ্ছে, তা প্রামণিত হয় কে নবীজীকে কিভাবে নিচ্ছে। কারণ, ইমানের মূল শানে-রেসালাত। শান মানে সম্মান। রেসালাত বুঝায় নবুয়তের ধারা কে। শানে রেসালাতের প্রতি দৃঢ়তাই ইমানের ভিত্তি।
যারা অর্ধেক খালি গ্লাস দেখে তারা অসুস্থ্য। মানসিক অসুস্থ্য। কারণ জগতের সৌন্দর্য সম্পর্কে তারা জানে না। ঠিক একই ভাবে যারা নবীজি (দ) এঁর অপূর্ণতা দেখে তারাও অসুস্থ্য। তাদের ইমানে অসুস্থ্যতা রয়েছে। চিকিৎসা প্রয়োজন।
এখন এই চিকিৎসা কে করবে? করতে হবে আমাকে, আমাদেরকে। কারণ, ইমান বিষয়টি এমন। নিজে জানলে অন্যকে জানানোটা ওয়াজিব।
অর্থ্যাৎ, আমাদের দাওয়াত দিতে হবে। এই দাওয়াতই হবে দাওয়া (ওষুধ)। কিন্তু দু:খের বিষয় আমরা দাওয়াতে পিছিয়ে। অনেক অনেক পিছিয়ে।
সত্য কথাটাই বলি। স্বাদে একটু তিতে। আমরা মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার থেকে ভাগিয়ে দিতেই বেশি পারদর্শী। মানে, কাফের-মুরতাদ-মুনাফেক তকমা দিতেই অভ্যস্থ।
এই গণ্ডি থেকে বেরুতে হবে। মানুষকে বুঝাতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। ভালোবাসতে হবে। কাছে টানতে হবে। হাসতে হবে। হাসাতে হবে। সাথে হাঁটতে হবে। একসাথে দেখতে হবে পূর্ণিমা চাঁদ। লুকাতে হবে তার দোষ-দূর্বলতা। বুঝাতে হবে আপনার হৃদয়ের ঘ্রাণ। যে ঘ্রাণের উৎস মদিনা।
হেদায়তের মালিক আল্লাহ। আমরা শুধু চেষ্টাই করতে পারি। কেউ হলে হবে। না হলে নেই। কিন্তু আমরা যেন রুক্ষ না হই। চরম শত্রুও যেন মনে মনে শ্রদ্ধা করে আমাদের। যেমনটা ইমাম আ'লা হযরত কে করত। বিরোধীরাও বলেছেন, আ'লা হযরত এঁর জ্ঞান-প্রেম অনস্বীকার্য।
কাউকে হুটহাট করে ভাগানোই সমাধান না। সমাধানের চেষ্টাই সমাধান। সংশোধন করটাই সমাধান। ইমামে আ'যম বলেন, কাউকে হারানো সহজ। কিন্তু কারো মন জয় করাটাই কঠিন।
এবং, মন-রাজ্যের দখলই সবচে বড় বিজয়। এটাই টেকসই। চিরস্থায়ী।
পবিত্র কাবা শরীফের ইতিহাস
পবিত্র কাবা শরীফের মর্যাদা ইতিহাস এবং ফজিলত।
সম্পূর্ণ না পড়েন তাহলে অনেক কিছুই অজানা রয়ে যাবে। তাই কষ্ট করে ধর্য্য সহকারে সম্পূর্ণ পড়েন।
কাবা শরিফের এলাকা মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক সংরক্ষিত একটি নিরাপদ স্থানে। এখানে মানুষ, পশু-পাখি, মশা-মাছি, গাছপালা, ফুল এমনকি এখানকার ঘাসও সব ধরনের অনিষ্টতা থেকে মুক্ত। প্রথম কাবা ঘর নির্মিত হয়েছিল হজরত আদম আলাইহিস সালামের জীবদ্দশায়। পৃথিবীর প্রথম ইবাদত ঘর কাবা শরীফ নির্মাণ শেষে তিনি পবিত্র এই ঘরের চারদিকে প্রদক্ষিণ করেছিলেন। এরপর হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এ ঘর পুনর্নির্মাণ করেছিলেন যাতে উনার পরিবার ও বিশ্বের মুসলমানরা এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। পরে অবশ্য বহুবার এই পবিত্র ঘরের সংস্কার কাজ সাধিত হয়েছে।
পবিত্র কাবা ঘরের উচ্চতা ১৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১২ মিটার ও প্রস্থ ১০ মিটার। একটি সমতল ক্ষেত্রের মাঝখানে অবস্থিত এ ঘরের চারদিকে রয়েছে মসজিদুল হারাম। এই পবিত্র ঘর খুবই সাদামাটা ও জাঁকজমকহীন হওয়া সত্ত্বেও দেখতে খুবই আকর্ষণীয় এবং ঔজ্জ্বল্যে ভরপুর। কাবা শরিফের সাদামাটা সৌন্দর্য ও অনাড়ম্বরতাই তাঁকে দিয়েছে অনন্যতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব।
মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কাবা শরিফের স্থান নির্ধারণ করেছেন পাথুরে পাহাড় ও স্বল্প পানিযুক্ত একটি কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তাদের জাগরণের ও দৃঢ়তার মাধ্যম হিসেবে। মহান আল্লাহ তায়ালা চেয়েছেন বনি আদম যেনো এই পবিত্র ঘরমুখি হয় এবং তাদের মনকে এদিকে কেন্দ্রীভূত করে ও এ ঘরের চারদিকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বা মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই- এ কথার স্বাক্ষ্য দেয়।
মহান আল্লাহ তায়ালার অভিপ্রায় হলে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো ও সুন্দরতম স্থানে পবিত্র কাবা কে প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন। তিনি এ ঘরের পাথরগুলোকে সবুজ মর্মর বা লাল চুনি পাথরের করতে পারতেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার বান্দাদের নানা বিপদ-আপদের মধ্যে পরীক্ষা করেন। তিনি চান তারা নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও উনার ইবাদত করুক। তাই তিনি তাদেরকে দুঃখ-দুর্দশায় নিপতিত করেন। এসব কিছুই দেয়া হয়েছে তাদের মন থেকে সব ধরনের অহংকার ও গরিমা দূর করার জন্য এবং তাদেরকে বিনয়ী করে তোলার জন্য এবং উনার দয়া ও ক্ষমা সহজতর করার উপায় হিসেবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি পবিত্র কাবা ঘরকে নিজের সঙ্গে সম্পর্কিত করে এ ঘরকে মহিমান্বিত করেছেন। কাবাকে মানুষের জন্য ইবাদতের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করে এ ঘরের চারদিকে শিকারসহ গাছ উপড়ানো নিষিদ্ধ করে পবিত্র মক্কা নগরীকে মানুষের জন্য নিরাপদ অঞ্চল করেছেন। অহান আল্লাহ পাক তিনি এ ঘরের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি দূর-দূরান্ত থেকে মানুষকে এ ঘরের কাছে আসতে বলেছেন। যাতে তারা এ ঘরের মালিকের প্রতি বিনম্রতা দেখাতে পারে এবং মহান আল্লাহ পাঁকের গুণে নিজেদের গুণান্বিত করতে পারে। ‘
পবিত্র কাবা ঘর এমন স্থান, যার চারদিকে প্রদক্ষিণ করেছেন নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালামরা। ফেরেশেতা আলাইহিমুস সালামরাও তওয়াফ করেছেন এই পবিত্র ঘর। পবিত্র কাবা শরীফ মুসলমানদের ইবাদতের মূল অক্ষ এবং মুসলমানদের সামাজিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র এমনকি সমস্থ পৃথিবীর মধ্যস্থল। মুসলমানরা প্রতিদিন কাবামুখি হয়ে ৫ বার নামাজ আদায় করেন পৃথিবীর সমস্থ দেশ এলাকা থেকে। আর পবিত্র জিলহজ মাসে বিশ্বের নানা প্রান্তের লাখ লাখ মুসলমান কাবাকে ঘিরে গড়ে তোলেন ঐক্য, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার মিলনমেলা। এভাবে কাবা শরীফকে ঘিরে মুসলমানদের তথা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আত্মসমর্পিত মানুষদের একত্ববাদের চেতনার সবচেয়ে সুন্দরতম ও সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ ঘটছে।
পবিত্র ক্বাবা শরীফ কোরআন সুন্নাহর আলোকে।
পবিত্র কাবা শরিফ পৃথিবীতে মহান আল্লাহ পাঁকের জীবন্ত নিদর্শন। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি কাবা শরীফকে উনার মনোনীত বান্দাদের মিলনমেলা হিসেবে কবুল করেছেন। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে পবিত্র কাবা শরিফের অবস্থান। যা পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। এ বিষয়ে উনার থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুর্রাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকার্রামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদঃ ২/২৯২)
ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে পবিত্র কাবা শরীফই পৃথিবীর মেরুদণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে পবিত্র কাবা শরীফ একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ পবিত্র কাবা শরীফকে কেন্দ্র করেই। পবিত্র মক্কা ও কাবা শরীফ এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার পদচিহ্ন-স্মৃতি। ইহুদি ও নাসারাদের নবী আলাইহিমুস সালামরা উনারই সুপুত্র ইসহাক আলাইহিস সালাম-এর বংশোদ্ভূত হওয়ায় পবিত্র কাবা শরীফের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য তাদের কাছেও সমানভাবে সমাদৃত।
পবিত্র কাবা শরীফ গৃহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তা পৃথিবীর সর্বপ্রথম ও সুপ্রাচীন ঘর। পবিত্র আল কোরআনের ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা বাক্কায় বরতমান নাম (পবিত্র মক্কা শরীফ নগরীতে) অবস্থিত।’ (সুরাঃ আলে ইমরান শরীফ, আয়াত শরীফ ৯৬)
পবিত্র কাবা শরীফ গোটা বিশ্বের স্তম্ভস্বরূপ, বিশ্বের ব্যবস্থাপনা ও বাইতুল্লা শরীফের মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক সুবাহানাহু ওয়া তাআলা তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত গৃহ কাবাকে মানুষের স্থিতিশীলতা ও স্থায়িত্বের কারণ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরাঃ মায়েদা শরীফ, আয়াত শরীফ ৯৭)
ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের বিধান দেওয়া হয়েছে পবিত্র কাবা শরীফ কে কেন্দ্র করে। যেমনঃ পবিত্র নামাজ, হজ, কোরবানি, পশু জবাই ও মৃতের দাফনসহ অনেক ইবাদত আদায় করতে হয় পবিত্র কাবা শরীফের দিকে ফিরে। হাদিস শরীফের ভাষ্য মতে, পবিত্র কাবা শরীফ গৃহে এক রাকাত নামাজ আদায় করলে এক লাখ রাকাত নামাজ আদায়ের সওয়াব পাওয়া যায়। পবিত্র কাবা শরিফের এ বিশেষ মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের কথা বিবেচনা করে ইসলাম পবিত্র কাবা শরীফের দিকে মুখ বা পিঠ দিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, ‘যখন তোমাদের মধ্য থেকে কেউ প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে বসবে, সে যেনো কাবাকে সামনে বা পেছনে না রাখে।’ (মুসলিম শরিফ)
মহান আল্লাহ পাঁক উনার নির্দেশে সর্বপ্রথম সেখানে কাবাঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামরা। আদম আলাইহিস সালাম-এর সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে পবিত্র কাবা শরীফের সৃষ্টি। মহান আল্লাহ পাক যখন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামদের দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, তখন উনারা আসমানে পবিত্র বায়তুল মামুর শরীফের আদলে নির্মিত একটি ইবাদতখানার জন্য প্রার্থনা করেন। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র বাইতুল মামুর শরীফের আদলে পৃথিবী সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে ফেরেশতাদের মাধ্যমে পবিত্র কাবা শরীফ সৃষ্টি করেন। তখন তা সাদা ফেনা ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। মহান আল্লাহ পাঁক উনার আরশ ছিলো পানির ওপর। হাদিস শরীফের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে। এর জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি পাহাড় সৃষ্টি করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরাঃ আন নাহল শরীফ, আয়াত শরীফ ১৫)
বেহেশত থেকে দুনিয়ায় আগমনের পর হজরত আদম আলাইহিস সালাম ও হজরত হাওয়া আলাইহিস সালাম-এর অনুরোধে সেটিকেই তাঁদের ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করে দেন মহান আল্লাহ তাআলা। নুহ আলাইহিস সালাম-এর সময়কার মহাপ্লাবনে পবিত্র কাবা শরীফ ঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে মহান আল্লাহ পাঁক উনার নির্দেশে আবার কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণ করেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও উনার ছেলে ইসমাইল আলাইহিস সালাম। এর পর থেকে কখনো বন্ধ থাকেনি পবিত্র কাবা শরীফের জিয়ারত। সর্বশেষ নবী ও রাসুল নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার আমলে এ আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণতা পায়। নবুয়ত লাভের ২২ বছর পর ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহান আল্লাহ পাঁক উনার নির্দেশ পেয়ে পবিত্র হজ্জ পালন করেন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। উনার দেখানো নিয়ম অনুসারেই প্রতিবছর শান্তিপূর্ণভাবে পবিত্র হজ্জ পালন করেন লক্ষ লক্ষ মুসলমানরা।
পবিত্র কাবা শরীফের প্রাঙ্গণে জমে উঠছে মুসলমানদের আন্তর্জাতিক মিলনমেলা। স্মরণাতীতকাল থেকে মক্কায় হজব্রত পালনকারীদের জমায়েত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাসমাবেশ। হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম কর্তৃক পবিত্র কাবা শরীফ গৃহ নির্মিত হওয়ার পর মহান আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন, ‘বিশ্ববাসীকে এ ঘর তওয়াফ করার আহ্বান জানাও’। তিনি আরজ করেন, ‘হে প্রভু! এখানে তো জনমানবহীন প্রান্তর। আমার আহ্বান জগদ্বাসী কিভাবে শুনবে? মহান আল্লাহ পাক বলেন, তোমার দায়িত্ব কেবল ঘোষণা দেওয়া। পৌঁছানো আমার কাজ। তারপর তিনি মাকামে ইব্রাহিমে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, ‘ওহে লোক সকল, তোমাদের পালনকর্তা নিজের গৃহ নির্মাণ করে উনার জিয়ারত তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা এ ঘর প্রদক্ষিণ করতে এসো।’ পয়গম্বরের এ আওয়াজ মহান আল্লাহ পাক তিনি বিশ্বের কোণে কোণে পৌঁছে দেন। কিয়ামত অবধি যত মানুষের আগমন ঘটবে এ ধরণীতে, সবার কানে এ আওয়াজ পৌঁছেছে। যারা ‘লাব্বাইকা’ বলেছেন, তাঁরা এ ঘরের জিয়ারত করে ধন্য হবেন। হজরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা তিনি বলেন, পবিত্র হজ্জে ‘লাব্বাইকা’ বলে যে তালবিয়া পাঠ করা হয়, তা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর সেই আহ্বানেরই জবাব। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের মধ্যে পবিত্র হজ্জের ঘোষণা প্রচার করো। তারা দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের কৃশকায় উটে সওয়ার হয়ে তোমার কাছে আসবে।’ (সুরাঃ হজ্জ শরীফ, আয়াত শরীফ ২৭)
পবিত্র কাবা শরীফ বিশ্বমোমেনের সম্মিলনস্থল। ঐক্যের প্রতীক। ভালোবাসার স্পন্দন। মহান আল্লাহ পাক বলেন, ‘আমি পবিত্র কাবা শরীফ ঘরকে মানুষের প্রত্যাবর্তনস্থল ও শান্তির আঁধার করেছি।’ (সুরাঃ বাকারা শরীফ, আয়াত শরিফঃ ১২৫) কাবাগৃহের অসিলায় মহান আল্লাহ পাক পবিত্র মক্কা শরীফ বাসীকে সর্বদা শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদে রেখেছেন। পবিত্র কাবা শরীফ ধ্বংস করতে আসা হাবশার দাম্ভিক সম্রাট আবরাহাকে অতি ক্ষুদ্র পাখি দ্বারা সদলবলে নিচিহ্ন করে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি লক্ষ করে না, আমি পবিত্র মক্কা শরীফকে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল করেছি। অথচ এর চতুষ্পার্শ্বে যারা রয়েছেন, তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। তবে কি তাঁরা মিথ্যায় বিশ্বাস করবে এবং মহান আল্লাহ পাঁকের নেয়ামত অস্বীকার করবে?’ (সুরাঃ আনকাবুত শরীফ, আয়াত শরীফ ৬৭)
কাবার সীমানায় প্রবেশকারী জীবজন্তুও নিরাপদ জীবন লাভ করে।
পবিত্র কাবা অফুরন্ত কল্যাণ ও বরকতের প্রতীক। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর পবিত্র বাক্কায়(পবিত্র মক্কা শরীফ নগরীতে) অবস্থিত। এ ঘর বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েতস্বরূপ। এতে রয়েছে বহু সুস্পষ্ট নিদর্শন। মাকামে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনাদের একটি। যে ব্যক্তি এর ভেতরে প্রবেশ করে, সে নিরাপত্তা লাভ করে। (সুরাঃ আলে ইমরান শরীফ, আয়াত শরীফ ৯৬-৯৭)
আদিকাল থেকেই এ গৃহের ইবাদত ও সম্মান অব্যাহত রয়েছে। জাহেলি যুগে মক্কাবাসী মূর্তিপূজায় লিপ্ত থাকলেও তারা কাবাকে যথেষ্ট সম্মান দেখাত। তারা কাবার রবের নামে শপথ করত। কাবার দেয়ালে কবিতা টানিয়ে রাখত। বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতো, পবিত্র হজ্জ, ওমরাহ পালন করতো ও বহির্দেশ থেকে আগত হাজিদের খেদমত করতো। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় কুরাইশ কর্তৃক বায়তুল্লাহ শরীফের পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদ স্থাপনকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রত্যেক গোত্রই কামনা করছিল এই অনন্য মর্যাদার কাজটি যেনো তারা আনজাম দেয়। অবশেষে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিজ্ঞোচিত ফয়সালায় সবাই সন্তুষ্ট হন। কুরাইশদের অঙ্গীকার ছিল যে তারা পতিতাবৃত্তি, চুরি, সুদ ইত্যাদি অবৈধ পথে অর্জিত অর্থ বায়তুল্লাহ নির্মাণের কাজে ব্যবহার করবে না। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র। তিনি পবিত্রতা ভালোবাসেন।
পবিত্র কাবা শরীফের চতুষ্পার্শ্বে রয়েছে বরকতময় বহু নিদর্শন। মাকামে ইব্রাহিম, মুলতাজিম, হাজরে আসওয়াদ, মিজাবে রহমত, হাতিম, মাতাফ, রুকনে ইয়ামানি, প্রত্যেকটি বরকতের আধার। এগুলোর কাছে থেকে দোয়া করলে তা কবুল হয়। এ কারণেই পবিত্র কাবা শরীফের পানে মোমেন হৃদয় বারবার ছুটে যায়। এটি পবিত্র কাবা শরীফের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যও বটে। আধুনিক দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম কোনো মনোরম দৃশ্য বা পর্যটনস্পট এক-দুবার পরিদর্শনেই মানব মন পরিতৃপ্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু শুষ্ক বালুকাময় মরু আরবের কাবাঘরে না আছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্যপট, না আছে চিত্তাকর্ষক কোনো বস্তু। তবুও সেখানে পৌঁছার আকুল আগ্রহ মোমেনের মনে ঢেউ খেলতে থাকে। সে আগ্রহে কখনো ভাটা পড়ে না।
সবাইকে ধন্যবাদ কষ্ট করে লিখাটি পড়েছেন বলে, অনুরোধ রইলো শেয়ারের যেনো অন্যরাও পবিত্র এই ঘর সম্পর্কে জানতে পারে আর কেমন লাগলো তা অবশ্যই জানাবেন।
অলৌকিক খেজুর বাগান মুহুর্তেই বীজ, ফল সহ গাছে পরিণত হওয়া! !!
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (র) বর্ণনা করেন,
হযরত সালমান ফার্সী (র:) এর মালিক ছিল একজন
ইয়াহুদী, (তৎকালিন সময়ে মানুষ কেনা বেচা হত)।
যে হযরত সালমান ফার্সী (র:) এর উপর কঠিন নির্যাতন করতো। হযরত সালমান ফার্সী (র) একদিন ঐ ইহুদী মালিক থেকে নিজের মুক্তি চাইলেন। তখন ঐ মালিকটি বললো,
যদি তুমি আমাকে ৬০০ দিনার দাও,আর আমার বাগানে ৩০০ শত খেজুর গাছের ছাডা লাগিয়ে সেই গাছে খেজুর যেইদিন ধরবে সেইদিন তোমাকে মুক্তি দিব।
হযরত সালমান ফার্সী (র:) পেরেশানি চেহরা নিয়ে দয়াল নবীজি (দ:) এর দরবারে গেলেন। নবীজিকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন।
দয়াল নবীজি (দ:) তখনি ৬০০ দিনার যোগাড় করলেন।
আর হযরত আলী (র) ও হযরত সালমান ফার্সী (র:)
কে নিয়ে ঐ ইহুদী মালিকের কাছে গেলেন।
তখন নবীজি (দ:) তার হাতে ৬০০ দিনার দিলেন,আর বললেন খেজুরের বীজ গুলি আমার হাতে দাও।
জুডিটি নবীজির হাতে দিয়ে ঐ ইহুদী ঠাট্টা করে হাসতে হাসতে বাডির দিকে চলে যায়।
দয়াল নবীজি (দ) নিজের হাতে বীজের জুডিটি নিলেন,
এবং হযরত আলী (র:) কে নির্দেশ দিলেন তুমি গর্ত খনন কর,আর হযরত সালমান ফার্সী (র:) কে নির্দেশ দিলেন, আমি বীজ বপন করার পর তুমি পানি ডালবে।
কিন্তু সাবধান বীজ বপন করতে করতে বাগানের শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে কেউ পিছনে তাকাবে না।
দয়াল নবীজি (দ:) নিজ হাতে বীজ রুপন করা
নবীজির (দ) নির্দেশ মোতাবেক, হযরত আলী (র:) ও হযরত সালমান ফার্সী (র:) যখন নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে নবীজির সাথে বাগানের শেষ পর্যন্ত পৌঁছালেন,তখন পিছনে ফিরে থাকালে দেখতে পেলেন
একটু আগে যে খেজুর বীজ রুপন করে আসলেন,সেই বীজ গাছে রুপান্তিরিত হয়ে গাছে খেজুর ধরে গেল।
ইহুদী বাডি থেকে ফিরে এসে দেখে, তার বাগার খেজুর গাছ দিয়ে ভরপুর হয়ে আছে,এবং গাছে খেজুর ধরে পেকে কালো বর্ণের হয়ে গেছে। এই অলৌকিক ঘটনা দেখে ঐ ইহুদী সাথে সাথে কালিমা পডে মুসলমান হয়ে গেলো। ( সুত্র:- ইবনে মাজা - দারেমী - আবু দাউদ)
সুবহানাল্লাহ
এই খেজুরের নাম হল আজওয়া খেজুর। যা সমস্ত খেজুরের চেয়ে একদমি আলাদা। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুর। আর স্বাদের দিক দিয়েও সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু। আর কেনইবা দামী হবে না? যে খেজুর রাসুলের নিজ হাতে রোপন করা। হাদীসের ভাষায় যেই খেজুরের মধ্যে রয়েছে অনেক রুগের নিরাময়।
* ছবিতে:- নবীজির নবুয়তের হাতে রুপন করা,মদীনা শরীফের সেই খেজুর বাগানের ছবি, যা আজ ও আছে।
Tuesday, July 17, 2018
উহুদের যুদ্ধে ৭০ জন শহীদ হয়েছে !!
একেক জনের লাশ এনে এক জায়গায় রাখা হচ্ছে। নবীজি গুনে দেখেলেন ৬৮ টা লাশ। ২ টা নাই, একজন তার চাচা হামজা (রাঃ) আরেক জন হানজালা (রাঃ)।
অস্থির হয়ে পড়েছেন নবীজি। সব সাহাবাদের পাঠাইলেন লাশ খোঁজার জন্য। সবাই এদিক ওদিক চলে গেলেন ৷ হঠাঁৎ বোরকা পরা এক মহিলা এসে দাঁড়ালেন নবীজির কাছে। নবী তাকে চিনলেন না। - মহিলা বললেন: ইয়া রাসুল্লাহ (দঃ) আপনি একটি বিয়ে পড়িয়ে ছিলেন মনে আছে?
নবীজি (দঃ) বলেন: হাঁ আমি তো হানজালার বিয়ে পড়িয়েছি।
যার বিয়ের খুশিতে আমি খুরমা খেজুর ছিটিয়ে ছিলাম। -
মহিলা বললেন: ইয়া রাসুল্লাহ! আমার হাতটা দেখেন। হাতের মেহেদী এখনও শুকায় নাই।
কাল বিকেলে বিয়ে হয়েছিল ৷ আর রাত ২টা বাজে ৷ তখন উহুদের যুদ্ধের ডাক এসেছে ৷ যুদ্ধের জন্য বের হয়ে গেছেন হানজালা। বাসর রাতে তাঁর সাথে আমার ভালোভাবে পরিচয়ই হয়নাই। যাওয়ার আগে শুধু বলে গেছেন "যদি ফিরে আসি তাহলে দেখা হবে দুনিয়ায়, আর যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে দেখা হবে জান্নাতে" -
মহিলা কেঁদে কেঁদে বললেন ইয়া রাসুল্লাহ (দঃ) যাওয়ার আগে আমার কপালে একটা চুম্বন করে গেছেন। লজ্জায় বলতেও পারি নাই আপনার জন্য গোসল ফরজ। - নবীজি (দঃ) কাদঁতেছেন। নবীজীর চুখে পানির ফোঁটা মুক্তার মতো জলমল করছে ৷ মহিলা বললেন: ইয়া রাসুল্লাহ, শহীদদের তো আপনি গোসল দেন না ৷ আমার স্বামীকে আপনি একটু গোসল দিয়েন? নবীজি সম্মতি প্রকাশ করার পর একজন সাহাবী দৌড়ে এসে বললেন ৷
ইয়া রাসুল্লাহ হানজালা কে পাওয়া গেছে। ---
সবাই গেলেন। গিয়ে দেখলেন সাদা কাফনের ভিতর লাশের মাথায় পানি। নবীজি মাথা হাত দিয়ে দিলেন। জিবরাঈল (আ) আসলেন .......এসে বললেন ইয়া রাসুল্লাহ হানজালার কোরবানিতে আল্লাহ্ পাক এতটাই খুশি হয়েছে ৷ যে আমি জিব্রাইল কে আদেশ করলেন তাকে নিয়ে আসতে। ইয়া রাসুল্লাহ আমরা ফেরেশতারা তাকে তৃতীয় আসমানে এনে জমজমের পানি দিয়ে গোসল করিয়েছি এবং তার শরীরে যে সুগন্ধ দেখছেন ৷ এটা আল্লাহ্ পাকের বিশেষ খুসবু মিশক আম্বর আতর দ্বারা, কাফনের কাপড়ে ঢুকিয়েছি।......
আল্লাহু আকবার
আবু যার (রা:) থেকে বণিত তিনি বলেন ৷ আমি নবীজি (স) কে জিজ্ঞাসা করলাম কোন কাজ
সবচেয়ে উত্তম ৷ তিনি বল্লেন আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তার পথে জিহাদ ৷
অস্থির হয়ে পড়েছেন নবীজি। সব সাহাবাদের পাঠাইলেন লাশ খোঁজার জন্য। সবাই এদিক ওদিক চলে গেলেন ৷ হঠাঁৎ বোরকা পরা এক মহিলা এসে দাঁড়ালেন নবীজির কাছে। নবী তাকে চিনলেন না। - মহিলা বললেন: ইয়া রাসুল্লাহ (দঃ) আপনি একটি বিয়ে পড়িয়ে ছিলেন মনে আছে?
নবীজি (দঃ) বলেন: হাঁ আমি তো হানজালার বিয়ে পড়িয়েছি।
যার বিয়ের খুশিতে আমি খুরমা খেজুর ছিটিয়ে ছিলাম। -
মহিলা বললেন: ইয়া রাসুল্লাহ! আমার হাতটা দেখেন। হাতের মেহেদী এখনও শুকায় নাই।
কাল বিকেলে বিয়ে হয়েছিল ৷ আর রাত ২টা বাজে ৷ তখন উহুদের যুদ্ধের ডাক এসেছে ৷ যুদ্ধের জন্য বের হয়ে গেছেন হানজালা। বাসর রাতে তাঁর সাথে আমার ভালোভাবে পরিচয়ই হয়নাই। যাওয়ার আগে শুধু বলে গেছেন "যদি ফিরে আসি তাহলে দেখা হবে দুনিয়ায়, আর যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে দেখা হবে জান্নাতে" -
মহিলা কেঁদে কেঁদে বললেন ইয়া রাসুল্লাহ (দঃ) যাওয়ার আগে আমার কপালে একটা চুম্বন করে গেছেন। লজ্জায় বলতেও পারি নাই আপনার জন্য গোসল ফরজ। - নবীজি (দঃ) কাদঁতেছেন। নবীজীর চুখে পানির ফোঁটা মুক্তার মতো জলমল করছে ৷ মহিলা বললেন: ইয়া রাসুল্লাহ, শহীদদের তো আপনি গোসল দেন না ৷ আমার স্বামীকে আপনি একটু গোসল দিয়েন? নবীজি সম্মতি প্রকাশ করার পর একজন সাহাবী দৌড়ে এসে বললেন ৷
ইয়া রাসুল্লাহ হানজালা কে পাওয়া গেছে। ---
সবাই গেলেন। গিয়ে দেখলেন সাদা কাফনের ভিতর লাশের মাথায় পানি। নবীজি মাথা হাত দিয়ে দিলেন। জিবরাঈল (আ) আসলেন .......এসে বললেন ইয়া রাসুল্লাহ হানজালার কোরবানিতে আল্লাহ্ পাক এতটাই খুশি হয়েছে ৷ যে আমি জিব্রাইল কে আদেশ করলেন তাকে নিয়ে আসতে। ইয়া রাসুল্লাহ আমরা ফেরেশতারা তাকে তৃতীয় আসমানে এনে জমজমের পানি দিয়ে গোসল করিয়েছি এবং তার শরীরে যে সুগন্ধ দেখছেন ৷ এটা আল্লাহ্ পাকের বিশেষ খুসবু মিশক আম্বর আতর দ্বারা, কাফনের কাপড়ে ঢুকিয়েছি।......
আল্লাহু আকবার
আবু যার (রা:) থেকে বণিত তিনি বলেন ৷ আমি নবীজি (স) কে জিজ্ঞাসা করলাম কোন কাজ
সবচেয়ে উত্তম ৷ তিনি বল্লেন আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তার পথে জিহাদ ৷
কুফা শহর ও হানাফী মাযহাবের সূত্রপাত
আজকাল অনেককে দেখা যায়, তারা হানাফী মাযহাবের অনুসারীদের বলছে ‘তোমরা কুরআন-সুন্নাহ ছেড়ে ইমাম আবূ হানীফাকে মানছো। অতএব, তোমরা শিরক করছো।’
আমরা বলব, যারা হানাফী মাযহাব সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ তাদের পক্ষে এমন কথা বলা সম্ভব। যারা হানাফী মাযহাবের উৎস সম্পর্কে জানে তারা কখনোই এমন কথা বলতে পারে না।
.
আমি এখানে হানাফী মাযহাব কোথা থেকে আসল, কীভাবে আসল, কীভাবে হানাফী মাযহাব সৃষ্টি হলো সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।
সতের হিজরীতে হযরত উমর রাদি. কর্তৃক ইরাক বিজয় হলো। ইরাকে তিনি একটি নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করলেন। শহরটির নাম রাখলেন ‘কূফা’। এই নতুন শরহটি মূলত মুসলমানদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং ইরাকের প্রশাসনের কাজ এখান থেকেই পরিচালিত হত। হযরত উমর রাদি. বিজিত এলাকার জনগণকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বিজ্ঞ সাহাবায়ে কেরামকে বিভিন্ন এলাকার মুআল্লিম করে পাঠাতেন।
সেই ধারাবাহিকতায় তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদি.কে ইরাকের মুআল্লিম করে পাঠালেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদি. কূফা নগরীতে অবস্থান করেছিলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. নবীজী ﷺ এর সফর সঙ্গী ছিলেন। তিনি নবীজী ﷺ কে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তাই নবীজী ﷺ এর কথা-কাজ খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।
নবীজী ﷺ এর ঘরে তার এতবেশি যাতায়াত ছিল যে, আগন্তুকরা মনে করতো তিনি নবীজী ﷺ এর পরিবারেরই একজন সদস্য। নবীজী ﷺ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. এর ইলমের উপর এত আস্থাশীল ছিলেন যে, তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ আমার উম্মাতের জন্য যা পছন্দ করবে আমি তা পছন্দ করলাম, আর সে আমার উম্মাতের জন্য যা অপছন্দ করবে আমি তা অপছন্দ করলাম।’ (ফাযায়েলুস সাহাবা, আহমাদ ইবনে হাম্বল হা.নং ১৫৩৬)
নবীজী ﷺ আরো বলেনঃ ‘আমি যদি মাশওয়ারা ছাড়াই কাউকে আমার খলীফা নিযুক্ত করতাম, তাহলে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদকে আমার খলীফা বানাতাম।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা:৭/৪২৩ মাকতাবায়ে শামেলা)
নবীজী ﷺ আরো বলেন, কুরআন যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবে তরতাজাভাবে যে কুরআন পড়তে চায়, সে যেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ এর তিলাওয়াত অনুসরণ করে।’ (মুসনাদে আহমাদ হা.নং ১৮৪৫৭)
নবীজী ﷺ আরো বলেন,‘তোমরা চারজন থেকে কুরআনের ইলম হাসিল করো; ১.আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ থেকে ২. উবাই ইবনে কাআব থেকে ৩. মুআয ইবনে জাবাল থেকে ৪. আবূ হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম সালেম থেকে।’ (সুনানে তিরমিযী হা.নং৩৮৯৮)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. সম্পর্কে হযরত উমর রাযি. এর মন্তব্য হলো, ﻛﻨﻴﻒ ﻣﻠﻰﺀ ﻋﻠﻤﺎ ‘তিনি ইলমে পরিপূর্ণ একটি ঘর।’ (ফাযায়েলে সাহাবা হা.নং১৫৫০) সূরা মুহাম্মাদ এর ষোল নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘তাদের (মুনাফিকদের) মধ্য থেকে কিছু লোক আপনার কথা শ্রবণ করে, অতঃপর আপনার নিকট থেকে বের হয়ে যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত তাদেরকে বলে, এই মাত্র তিনি কী বললেন?’ এখানে জ্ঞানপ্রাপ্ত বলে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. কে বুঝানো হয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা:৭/২৯০ মাকতাবায়ে শামেলা)
আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. অসংখ্য ফযীলতের মধ্য থেকে মাত্র কয়েকটি ফযীলতের কথা এখানে উল্লেখ করলাম যা দ্বারা স্পষ্টভাবে এ কথা প্রমাণিত হলো যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে একজন বড় মাপের আলেম ছিলেন। তিনি কূফা নগরীতে ছাত্রদের বিশাল মজমায় কুরআন-সুন্নাহের দরস দিতেন। কুরআন-সুন্নাহের আলোকে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান দিতেন।
ইবনুল কাইয়্যিম জাওযিয়া রহ. বলেছেন, সাহাবায়ে কেরাম রাযি. এর মধ্যে সাতজন সর্বাধিক ফাতাওয়া-ফারায়েযের কাজ করেছেন। তিনি সাতজনের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় নম্বরে যথাক্রমে হযরত আলী রাযি. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি.কে উল্লেখ করেছেন। (উসূলুল ইফতা:পৃ.৩৪)
আর আল্লাহর মেহেরবানীতে এই দু‘জনই কূফা নগরীতে নিজেদের ইলম বিতরণ করেছেন। এই দু‘জন ছাড়া আরো প্রায় পনেরশত সাহাবায়ে কেরাম রাযি. কূফা নগরীতে অবস্থান করেছিলেন। যার ফলে কূফা নগরী তখন ইলম চর্চার মারকাযে পরিণত হয়েছিল।
৩২ হিজরীতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. এর ইন্তিকালের পর তাঁর সুযোগ্য শিষ্য আলকামা বিন কয়েস রহ. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. এর স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি কূফায় দরস ও তাদরীসের খেদমত আঞ্জাম দিতে থাকেন, আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ সহ অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম থেকে আহরিত কুরআন-সুন্নাহ, ও ফাতাওয়া-ফারায়েযের ইলম বিতরণ করতে থাকেন।
৬২ হিজরীতে তাঁর ইন্তিকালের পর তাঁর সুযোগ্য শাগরিদ প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ফকীহ ইবরাহীম নাখায়ী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।
৯৬ হিজরীতে ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি কুরআন-সুন্নাহ ও ফাতাওয়া-ফারায়েযের খেদমত আঞ্জাম দিতে থাকেন।
তাঁর ইন্তিকালের পর ইলমের এই মীরাসের অধিকারী হন আবূ হানীফা রহ. এর উস্তাদ হাম্মাদ ইবনে আবী সুলাইমান।
হাম্মাদ ইবনে আবী সুলাইমান ইবরাহীম
আমরা বলব, যারা হানাফী মাযহাব সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ তাদের পক্ষে এমন কথা বলা সম্ভব। যারা হানাফী মাযহাবের উৎস সম্পর্কে জানে তারা কখনোই এমন কথা বলতে পারে না।
.
আমি এখানে হানাফী মাযহাব কোথা থেকে আসল, কীভাবে আসল, কীভাবে হানাফী মাযহাব সৃষ্টি হলো সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।
সতের হিজরীতে হযরত উমর রাদি. কর্তৃক ইরাক বিজয় হলো। ইরাকে তিনি একটি নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করলেন। শহরটির নাম রাখলেন ‘কূফা’। এই নতুন শরহটি মূলত মুসলমানদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং ইরাকের প্রশাসনের কাজ এখান থেকেই পরিচালিত হত। হযরত উমর রাদি. বিজিত এলাকার জনগণকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বিজ্ঞ সাহাবায়ে কেরামকে বিভিন্ন এলাকার মুআল্লিম করে পাঠাতেন।
সেই ধারাবাহিকতায় তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদি.কে ইরাকের মুআল্লিম করে পাঠালেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদি. কূফা নগরীতে অবস্থান করেছিলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. নবীজী ﷺ এর সফর সঙ্গী ছিলেন। তিনি নবীজী ﷺ কে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তাই নবীজী ﷺ এর কথা-কাজ খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।
নবীজী ﷺ এর ঘরে তার এতবেশি যাতায়াত ছিল যে, আগন্তুকরা মনে করতো তিনি নবীজী ﷺ এর পরিবারেরই একজন সদস্য। নবীজী ﷺ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. এর ইলমের উপর এত আস্থাশীল ছিলেন যে, তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ আমার উম্মাতের জন্য যা পছন্দ করবে আমি তা পছন্দ করলাম, আর সে আমার উম্মাতের জন্য যা অপছন্দ করবে আমি তা অপছন্দ করলাম।’ (ফাযায়েলুস সাহাবা, আহমাদ ইবনে হাম্বল হা.নং ১৫৩৬)
নবীজী ﷺ আরো বলেনঃ ‘আমি যদি মাশওয়ারা ছাড়াই কাউকে আমার খলীফা নিযুক্ত করতাম, তাহলে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদকে আমার খলীফা বানাতাম।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা:৭/৪২৩ মাকতাবায়ে শামেলা)
নবীজী ﷺ আরো বলেন, কুরআন যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবে তরতাজাভাবে যে কুরআন পড়তে চায়, সে যেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ এর তিলাওয়াত অনুসরণ করে।’ (মুসনাদে আহমাদ হা.নং ১৮৪৫৭)
নবীজী ﷺ আরো বলেন,‘তোমরা চারজন থেকে কুরআনের ইলম হাসিল করো; ১.আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ থেকে ২. উবাই ইবনে কাআব থেকে ৩. মুআয ইবনে জাবাল থেকে ৪. আবূ হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম সালেম থেকে।’ (সুনানে তিরমিযী হা.নং৩৮৯৮)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. সম্পর্কে হযরত উমর রাযি. এর মন্তব্য হলো, ﻛﻨﻴﻒ ﻣﻠﻰﺀ ﻋﻠﻤﺎ ‘তিনি ইলমে পরিপূর্ণ একটি ঘর।’ (ফাযায়েলে সাহাবা হা.নং১৫৫০) সূরা মুহাম্মাদ এর ষোল নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘তাদের (মুনাফিকদের) মধ্য থেকে কিছু লোক আপনার কথা শ্রবণ করে, অতঃপর আপনার নিকট থেকে বের হয়ে যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত তাদেরকে বলে, এই মাত্র তিনি কী বললেন?’ এখানে জ্ঞানপ্রাপ্ত বলে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. কে বুঝানো হয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা:৭/২৯০ মাকতাবায়ে শামেলা)
আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. অসংখ্য ফযীলতের মধ্য থেকে মাত্র কয়েকটি ফযীলতের কথা এখানে উল্লেখ করলাম যা দ্বারা স্পষ্টভাবে এ কথা প্রমাণিত হলো যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে একজন বড় মাপের আলেম ছিলেন। তিনি কূফা নগরীতে ছাত্রদের বিশাল মজমায় কুরআন-সুন্নাহের দরস দিতেন। কুরআন-সুন্নাহের আলোকে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান দিতেন।
ইবনুল কাইয়্যিম জাওযিয়া রহ. বলেছেন, সাহাবায়ে কেরাম রাযি. এর মধ্যে সাতজন সর্বাধিক ফাতাওয়া-ফারায়েযের কাজ করেছেন। তিনি সাতজনের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় নম্বরে যথাক্রমে হযরত আলী রাযি. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি.কে উল্লেখ করেছেন। (উসূলুল ইফতা:পৃ.৩৪)
আর আল্লাহর মেহেরবানীতে এই দু‘জনই কূফা নগরীতে নিজেদের ইলম বিতরণ করেছেন। এই দু‘জন ছাড়া আরো প্রায় পনেরশত সাহাবায়ে কেরাম রাযি. কূফা নগরীতে অবস্থান করেছিলেন। যার ফলে কূফা নগরী তখন ইলম চর্চার মারকাযে পরিণত হয়েছিল।
৩২ হিজরীতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. এর ইন্তিকালের পর তাঁর সুযোগ্য শিষ্য আলকামা বিন কয়েস রহ. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. এর স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি কূফায় দরস ও তাদরীসের খেদমত আঞ্জাম দিতে থাকেন, আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ সহ অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম থেকে আহরিত কুরআন-সুন্নাহ, ও ফাতাওয়া-ফারায়েযের ইলম বিতরণ করতে থাকেন।
৬২ হিজরীতে তাঁর ইন্তিকালের পর তাঁর সুযোগ্য শাগরিদ প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ফকীহ ইবরাহীম নাখায়ী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।
৯৬ হিজরীতে ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি কুরআন-সুন্নাহ ও ফাতাওয়া-ফারায়েযের খেদমত আঞ্জাম দিতে থাকেন।
তাঁর ইন্তিকালের পর ইলমের এই মীরাসের অধিকারী হন আবূ হানীফা রহ. এর উস্তাদ হাম্মাদ ইবনে আবী সুলাইমান।
হাম্মাদ ইবনে আবী সুলাইমান ইবরাহীম
Subscribe to:
Posts (Atom)
Featured post
কুরবানী বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ৬৫টি মাসআলা
কোরবানী বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ৬৫টি মাসআলা ||-----๑▬▬๑﷽๑▬▬๑-----|| কোরবানী একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিময় আমল। আল্লাহ বলেন فصل لربك وانحر হে নবী! আপনি ...



